ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাটিয়ারীর পাহাড় কেটে আওয়ামী ব্যবসায়ীর মেয়ের রিসোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-১২ ১০:৫১:৪২
ভাটিয়ারীর পাহাড় কেটে আওয়ামী ব্যবসায়ীর মেয়ের রিসোর্ট ভাটিয়ারীর পাহাড় কেটে আওয়ামী ব্যবসায়ীর মেয়ের রিসোর্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক
এক সময় মেছো বাঘ, হরিণ আর বানরের আনাগোনায় মুখর ছিল চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীর পাহাড়। সেই পাহাড়ের বুক চিরে এখন চলছে পর্যটকদের হৈ-হুল্লোড়, সুইমিংপুলে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। পাঁচ হাজারের বেশি গাছ কাটা পড়েছে, রক্ষিত বনের জমি গেছে দখলে আর নিঃশব্দে হারিয়ে গেছে বনের প্রাণ।

২০১৯ সালের আগেও এই পাহাড়ে ঢোকার একমাত্র পথটি ছিল সরু, ছায়াঢাকা ও নিরিবিলি। দুই পাশে ঘন বন, মাটির গন্ধ। পাতার ফাঁকে আলোর খেলা। সেই বছরই শুরু হয় মাটি-টা রিসোর্টের নির্মাণ কাজ। এক্সকাভেটর নামে পাহাড়ে। গাছ পড়তে থাকে একের পর এক। মাটি কাটা হয়, সমতল করা হয়, ঢালু পাহাড়ের গায়ে তৈরি হয় সিঁড়ি আর দেয়াল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি-টা রিসোর্ট নির্মাণে কাটা পড়েছে অন্তত পাঁচ হাজার গাছ। কেটে ফেলা হয়েছে পাহাড়ের একাংশ। দুই পাশের পাহাড়ে গাছ সাফ করে গড়া হয়েছে নানা স্থাপনা। একটি পাহাড় কেটে তৈরি হয়েছে বড় মাঠ।

ভাটিয়ারীর পুরোনো বাসিন্দা রহিম মিয়ার বয়স এখন সত্তরের কোঠায়। ছোটবেলায় এই পাহাড়ে কাঠ কুড়াতে যেতেন। তখন মাঝেমধ্যেই দেখা মিলত মেছো বাঘের। হরিণ ছুটত ঝোঁপের আড়ালে। বানরের দল লাফিয়ে বেড়াত ডাল থেকে ডালে। সেই পাহাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, আগে ভোরবেলা পাখির ডাকে ঘুম ভাঙত। এখন ভাঙে জেনারেটরের শব্দে।

রহিম মিয়ার স্মৃতির সেই পাহাড় আজ আর নেই। চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে সোনাইছড়ি রক্ষিত বনের দক্ষিণ অংশজুড়ে এখন দাঁড়িয়ে আছে মাটি-টা রিসোর্ট। এতে রয়েছে সুইমিংপুল, কৃত্রিম হ্রদ, বহুতল ভবন আর অ্যাডভেঞ্চার পার্ক। রয়েছে ৩০০ মানুষের রাত্রিযাপনের সুবিধাও।

মাটি-টা রিসোর্টের মালিক মুনাল মাহবুব ও তাসনিম মাহমুদ। মুনাল মাহবুব চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি এবং এফবিসিসিআইয়ের একাধিক মেয়াদের সভাপতি মাহবুবুল আলমের মেয়ে। আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মাহবুবুল আলম ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এফবিসিসিআই সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পারিবারিক প্রভাবই রিসোর্টটিকে বছরের পর বছর জবাবদিহির বাইরে রেখেছে। বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ— কেউ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

সচেতন নাগরিক কমিটির চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, যে সময়ে এই রিসোর্ট গড়ে উঠেছে, সে সময় দেশে আইনের শাসন ছিল না। প্রভাবশালীরা নিজেদের মতো করে আইনকে ব্যবহার করেছেন।

পরিবেশবিদ ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, প্রতিটি বনের নিজস্ব বাস্তুসংস্থান গড়ে উঠতে দশকের পর দশক লাগে। কিন্তু ধ্বংস করতে লাগে মাত্র কয়েক মাস। এটির সবচেয়ে বড় উদাহরণ মাটি-টা রিসোর্টটি।






 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ